লাইফস্টাইল

শীতকালে যেসব সবজি বেশি বেশি খাবেন

শীতের আগমন ঘটেছে। গ্রামের দিকে একটু একটু কুয়াশা পড়তে শুরু করছে। একই সাথে শীতের নানা ধরনের সবজিও বাজারে ওঠতে শুরু করছে। শীতের সময়ে সুস্থ থাকতে ঋতুর এ পরিবর্তনে নিজেকে মানিয়ে নিতে একটু সচেতন হতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে শীতের কিছু সবজি খাওয়া অতিপ্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীর ভেতর থেকে সুস্থ থাকলেই ত্বক উজ্জ্বল রাখা সম্ভব। শীতে কিছু সবজি আপনাকে সজীবতা ও সুস্থতা এনে দিবে। তাই শীতে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি মেটাতে সবজি খাওয়া উচিত।

জেনে নিন কোন কোন সবজি শীতে খাবেন:

গাজর: শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম গাজর। যা পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও আঁশসমৃদ্ধ সবজি। গাজরে রয়েছে দুই ধরনের আঁশ রয়েছে। একটি হলো দ্রবণীয় আর অপরটি অদ্রবণীয়। যা ওজন কমানোর জন্য খুবই উপকারী। এ সবজিতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

এটি শীতকালে আমাদের ত্বকের জন্য দারুণ উপকারিতা রয়েছে। শীতকালে গাজর খেলে ত্বকের কুচকানো ভাব অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া শীতে ত্বক কালো দেখানো ভাবও থাকবে না।

পালং শাক: পালং আমাদের দেশে একটি পরিচিত শাক। শীতের এ শাক সকলেরই পছন্দের। এটি ভাজি বা ঝোল রান্না করে খাওয়া যায়। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি। এছাড়া পালং শাকে ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে। এ শাকে ক্যালরিও অনেকে থাকে।

আমাদের শরীরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে এ শাক। নানা রকম অসুখ থেকে দূরে থাকতেও সহায়তা করে এই সবুজ শাকটি। পেটে চর্বি ও ওজন দ্রুত কমাতে প্রচুর পরিমাণে পালং শাক খেতে পারেন।

মুলা: শীতের অন্যতম পরিচিত সবজি মুলা। গরম ভাতের সাথে মুলা তরকারি দিয়ে খেতে দারুণ লাগে। মূলাতে উপস্থিত ফলেট, ফাইবার, রাইবোফ্লবেন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্যালসিয়াম দেহে প্রবেশ করার পর ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীরকে অনেকটা সতেজ করে তোলে।

যার ফলে ক্ষতিকর জাবীণুদের মেরে ফেলার ফলে আর কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। মুলা লিভার ও পাকস্থলী দুটোকেই পরিষ্কার ও টক্সিনমুক্ত করে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ রয়েছে।

বিট: বিটে ক্যালোরির মাত্রা খুবই কম। যা শরীরকে টক্সিনমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। বিটে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও নাইট্রেট রয়েছে। যার ফলে বিট খাওয়া খুবই জরুরী। যাদের মুখে ব্রণ রয়েছে বা তৈলাক্ত ত্বক এদের জন্য বিট খাওয়া উপকারিতা।

সরিষা শাক: শীতকালে অনেকের বাড়িতেই সরিষা শাক বা ফুল দিয়ে বড়া বানানো হয়। সরিষা শাক ভিটামিন ও মিনারেলের একটি সমৃদ্ধ উৎস। এ শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার।

এ শাক ওজন কমাতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া হার্ট ভালো রাখা, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়ের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।