ভোলার দড়ির পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

ভোলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের হাতে তৈরি হোগলা পাতার দড়ি দিয়ে বানানো পণ্য যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। জেলার সদর উপজেলা, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার নারী দড়ি তৈরির কাজের সাথে যুক্ত।
ঢাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব দড়ি দিয়ে অন্য উপকরণের সাহায্যে ঝুড়ি, বসার মোড়া, পাপোশ, মাদুর, ফ্লোর ম্যাট, ফুলদানি, সোফা সেট, নারীদের হাত ব্যাগ, সৌন্দর্য বর্ধনের নানান ধরণের পণ্য পণ্য তৈরী করছে। এরপরে তা বিদেশেও রপ্তানি করছে তারা।
ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইতালী, হংকং, জাপান, চায়না, ভারত, জার্মানীসহ ইউরোপ ও মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যে পাঠানো হয়। সংসারের কাজের পাশাপাশি দড়ি তৈরি করে বাড়তি আয়ে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে এসব নারীদের পরিবারে।
জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে বিডি ক্রিয়েশন নামে ঢাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ভোলাতে হোগলা পাতা দিয়ে দড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পেলেও বর্তমানে সেখানকার নারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে এই কার্যক্রম। দড়ি তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পাইকাররা নারীদের বিনামূল্যে হোগলা পাতা সরবরাহ করে। প্রতি এক হাজার হাত দড়ির দাম ১১০ টাকা করে দেওয়া হয় কারিগরদের।
দড়ি নারীদের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে পাইকাররা ঢাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। সেখান থেকে হরেক রকম পণ্য তৈরি করে তা বিদেশে পাঠানো হয়।
প্রথমে পাতাগুলো ২/১ দিন রোদে শুকাতে হয়। তারপর লম্মা লম্বা এসব পাতাকে ২/৩ ভাগ করে হাত দিয়ে পাকিয়ে দড়ি তৈরি হয়।
সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের দড়ির এক পাইকার জানান, জেলায় প্রায় ৫০ জন পাইকার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে হোগলা পাতা সংগ্রহ করে নারীদের বিনামূল্যে দেয়। পরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে এসব দড়ি প্রতি হাজার হাত ১১০ টাকায় কেনেন। প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পান হাজার হাত ২১০ টাকা তারা।
সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের গ্রামের নারীরা জানান,সংসারের কাজের পাশাপাশি তারা দড়ি তৈরি করে থাকেন। দৈনিক প্রায় ১ হাজার হাত দড়ি তৈরি করা যায়। সংসারে কাজ কম থাকলে আরও বেশি দড়ি বানানো যায়।
বিডি ক্রিয়েশন প্রতিষ্ঠানের ভোলার এরিয়া ম্যানেজার কাজী এনামুল হক বাচ্চু জানান, আমরা ভোলার বিভিন্ন পাইকারদের কাছ থেকে ক্রয় করে দড়িগুলো ঢাকায় পাঠাই। ঢাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের কারখানায় হোগলা পাতার দড়ির সাথে অন্য উপকরণের সাহায্যে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তৈরি হয়। যা দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে জেলায় মাসে ১ কোটি ২০ থেকে ৩০ লাখ হাত দড়ি তৈরি হয়।
প্রতিষ্ঠানের ঢাকা অফিসের এজিএম (অপারেশন) রবিউল হাসান জানান, হোগলা পাতা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য উৎপাদন আমরাই প্রথম তৈরি করছি। ভোলার প্রত্যন্ত এলাকার নারীরা এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মদক্ষ হয়ে উঠছেন।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইকবাল হোসেন জানান, জেলায় প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর হোগলা পাতা তৈরি হয়। পাতা দিয়ে দড়ি তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন গ্রামীণ নারীরা। তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।



