সিংহ বনের রাজা কিন্তু বাঘ কেন বনের রাজা নয়

বিড়াল শ্রেণীর প্রাণিদের মধ্যে বাঘই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আকারের দিক থেকেও সবচেয়ে বড় । সিংহ বাঘের চেয়ে আকারে ছোট এবং এর শারীরিক শক্তিও বাঘের চেয়ে কম। তবুও সিংহকেই বনের রাজা বলা হয়, বাঘকে নয়। বাঘকে কেন বনের রাজা বলা হয় না এ প্রশ্ন জাগতে পারে অনেকের মনেই। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে
হলে প্রথমেই আলোকপাত করতে হয় একজন রাজার স্বভাব এবং বৈশিষ্ট্যের দিকটিতে। একজন রাজা যেমন সবসময় দাপট নিয়ে চলাফেরা করেন, সিংহও তেমনি সবসময় বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে জঙ্গলের ভেতর চলাফেরা করে। সিংহের কেশর, হুংকার ও গর্জন যেন একজন রাজার দাপুটে স্বভাবেরই পরিচায়ক। অপরদিকে,
বাঘের গর্জন সিংহের চেয়েও ভয়ংকর এবং জোরালো হলেও সিংহের মতো বহুদুর পর্যন্ত বিস্তৃতি তার নেই। একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের গর্জন ৩ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। আপাতদৃষ্টিতে এটি অনেক বলে মনে হলেও সিংহের গর্জনের তুলনায় তা অতি নগন্য। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সিংহের গর্জন প্রায় ৮ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে শোনা যায়। রাজার হুংকার প্রজা যেন অনেক দূর থেকে শুনতে পায় , এ দিক বিবেচনা করেও সিংহকেই বনের রাজার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, বাঘকে নয়। একটি সিংহ একটী বাঘের চেয়ে বেশিক্ষণ ধরে লড়তে পারে। বাঘ যদিও সিংহের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং আকারেও বড়, তবুও সে সিংহের মতো বেশিক্ষণ ধরে লড়তে পারেনা, হাঁপিয়ে যায়। এছাড়াও বাঘ নিজের চেয়ে বড় প্রাণি, যেমনঃ হাতি, ভাল্লুকদের ভয় পায়। কিন্তু সিংহ কোনো প্রাণিকেই ভয় পায়না, হোক সে তার চেয়ে বড় অথবা শক্তিশালী।
কোনো জন্তুর সাথে যখন বাঘ লড়াই করে এবং নিজের জয় লাভের কোনো সম্ভাবনা না দেখে, তখন বাঘ লড়াইক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সিংহ যখন কোনো জন্তুর সাথে লড়াই করে, তখন সে কখনো লড়াই ছেড়ে পালায় না। যদি এমনও হয় যে, এই লড়াইয়ে সিংহের মৃত্যু নিশ্চিত, তবুও সিংহ লড়তেই থাকে। একজন রাজা
যেমন কাউকে ভয় পায়না, অকুতোভয় মনোবল নিয়ে রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালনা করে, সিংহও তেমনি কাউকে ভয় না পেয়ে জঙ্গলে রাজত্ব করে। একারণেই সিংহ বনে নিজের কর্তৃ্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, যা বাঘ পারেনি। আর এজন্যই সিংহই বনের রাজা, বাঘ নয়।

