মুকুটহীন নবাব আনোয়ার হোসেনের জীবনী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মুকুটহীন নবাব’ খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেন ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এ কে এম নাজির হোসেন ছিলেন জেলা সাব-রেজিস্টার। আর মায়ের নাম সাঈদা খাতুন।
স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ের সাথে জড়িত ছিলেন আনোয়ার হোসেন। স্কুল জীবনে প্রথম অভিনয় করেন ‘আসকার ইবনে সাইকের পদক্ষেপ’ নাটকে। এরপর বিভিন্ন মঞ্চে নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ময়মনসিংহে আনন্দ মোহন কলেজে পড়া অবস্থায় সময়েও অনেক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন।
কলেজের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। যেখানে নিয়মিত নাটক পাড়ায় যাতায়াত শুরু করেন। অডিশন দিয়ে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়েও করেন তিনি। এরপরে ধীরে ধীরে মঞ্চ নাটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন আনোযার।
এক পর্যায়ে ঝিনুক পত্রিকার সম্পাদক আসিরুদ্দিনের সহযোগিতায় মিনার্ভা থিয়েটার গঠন করেন। সেই থিয়েটারের সাথে যুক্ত হোন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফতেহ লোহানী, মেহফুজ, সুভাষ দত্ত, চিত্রা সিনহাসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব।
মঞ্চ নাটকে আনোয়ার হোসেনের দারুণ অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয় পরিচালক মহিউদ্দিন। যার ফলে ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিনের ‘তোমার আমার’ সিনেমায় ভিলেনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
‘সুর্যস্নান’ সিনেমার মধ্যদিয়ে নায়ক চরিত্রে যাত্রা শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। যা নির্মাণ করেছিলেন সালাহউদ্দিন। এরপরই থেকেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে শুরু করেন আনোয়ার হোসেন।
১৯৬৭ সালের সিনেমা ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’এর মাধ্যমেই তারকা খ্যাতি অর্জন করেন আনোয়ার হোসেন। বাংলার শেষ নবাবের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার মাধ্যমে দেশের বাংলা সিনেমা ভক্তদের জয় করে ছিলেন তিনি।
২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের অভিনয়ে মুগ্ধ করেছিলেন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তকে।
আনোয়ার হোসেন অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘সূর্যস্নান’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘জয় বাংলা’, ‘লাঠিয়াল’, ‘পালঙ্ক’, ‘নয়নমণি’, ‘ভাত দে’, ‘চাকর’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘অরুণোদ্বয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘নাজমা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘দায়ী কে’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘সুন্দরী’ ইত্যাদি।
আনোয়ার হোসেন ছিলেন প্রথম অভিনেতা হিসেবে ‘লাঠিয়াল’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং একবার আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ‘মুকুটহীন নবাব’খ্যাত এ অভিনেতা।
২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই কিংবদন্তী অভিনেতা।
উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন ১৯৫৭ সালে নাসিমা খানমকে বিয়ে করেন। তিনি চারটি পুত্র সন্তানের জনক।


