টেকনোলজি

জেনে নিন স্মার্টফোন ফাস্ট করার উপায়

প্রতি বছর বাজারে নতুন মডেলের আরও উন্নত প্রসেসর নিয়ে আসছে স্মার্টফোন। নিজের সার্মথ্য অনুসারেও বাজারে স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। তবে দামি ফোনগুলোতে সাধারণত বড় সমস্যা দেখা যায় না। যেখানে কোম্পানিগুলো ফ্ল্যাগশিপ ফোন বানানোর সময় সফটওয়ার ও হার্ডওয়ারে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

তবে যারা কম দামে কিংবা মিডরেঞ্জে ফোন কেনে তাদের নানান অসুবিধা দেখা দেয়। এছাড়া অনেকে পুরনো স্মার্টফোনও কিনেন। অনেক সময় অনেক ছোট ছোট কারণে ফোন ধীরগতির হয়ে যায়। আপনার জন্যে কিছু টিপস রয়েছে যা সহজে ফোনকে কিছুটা ফাস্ট হতে সহায়তা করবে।

জেনে নিন স্মার্টফোন ফাস্ট করার উপায়:

সিস্টেম আপডেট করুন: প্রতিটি ফোন কোম্পানিই নিজস্ব ইন্টারফেস ব্যবহার করে। সময়ে সময়ে তারা সিস্টেম আপডেট দেয়, নতুন ফিচার যেন ইউজাররা উপভোগ করতে পারেন। তাই ফোন স্লো হয়ে গেলে সিস্টেম আপডেট দিয়ে দেখুন। অবশ্য বেশ কদিন ধরে কিছু কোম্পানির ফোনে সিস্টেম আপডেট দেওয়ার পর নানা সমস্যা পাওয়া গেছে। তাই আগে ফোরামগুলোতে গিয়ে আপডেটটির রিভিউ জেনে নিন। তাতে নিরাপদেই আপডেট দিতে পারবেন।

ব্যাটারির যত্ন: মোবাইল চার্জ দেওয়ার সময় ফোন চালাবেন না। এমনকি ফোন সব সময় ফুল চার্জ করা অথবা একেবারে চার্জ শেষ করা ঠিক নয়। ব্যাটারি উৎপাদনের সময় ঠিক কতবার ফুল চার্জ হওয়ার সক্ষমতা রাখে তা নির্ধারিত থাকে। তাই ঘন ঘন ফুল চার্জ দেওয়া ব্যাটারির ক্ষতিকর। সারারাত ফোন চার্জ দিয়ে রাখা উচিৎ নয়। স্বাভাবিক চার্জ ৯০ শতাংশ হলেই চার্জ থেকে খুলে নিন।

ব্লোটওয়ার সরান: মোবাইল রিসেট দেওয়ার পর বা নতুন কেনার পর সবসময় কিছু অ্যাপ থাকে যা আপনার কাজে আসে না। এদের বলা হয় ব্লোটওয়ার। মূলত স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত আয়ের জন্যে কিছু গেমস বা অতিরিক্ত অ্যাপ দিয়ে থাকে। কিছু কিছু অ্যাপ আন-ইনস্টল করা যায় আবার কিছু কিছু অ্যাপ আন-ইনস্টল করাই যায় না। যেগুলো আন-ইনস্টল করা যায়, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।

সিস্টেম স্টোরেজ ফুল করবেন না: বর্তমানেমোবাইলের সিস্টেম স্টোরেজ ব্যবহার করে থাকে অনেকে। সিস্টেম স্টোরেজ কখন ৯০ শতাংশের বেশি খরচ করা ঠিক নয়। বাজারে এসডি কার্ড পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসডি কার্ডের ক্ষেত্রে ক্লাস টেন কি না সেটাও দেখে নিন। নকল বা সাধারণ এসডি কার্ড ফোন আরও স্লো করে দেয়। 

অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশ সাফ করুন: আপনার ফোনে ক্যাশ ফাইল জমে খেয়াল করবেন হয়তো। মূলত ক্যাশ ফাইল হলো ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ফোনে ব্রাউজার থেকে জমা হওয়া কিছু ফাইল। শুধু ডেভেলপাররাই এই ফাইলগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারে। তাই আমাদের সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারী তেমন কাজে আসে না। প্রায় প্রতিটি অ্যাপ বিশেষত গুগলের ইউটিউব, জিমেইল, ফেসবুক ও ভারি গেমের অ্যাপ ক্যাশ জমা করে। যা অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশ ফাইল ফোনকে স্লো করে দেয়। সিস্টেম স্টোরেজে গেলে সহজে এই ক্যাশ ফাইল দূর করা যায় 

এপ্লিকেশনকে যত্রযত্র পারমিশন দেবেন না: ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার পরই নানা পারমিশন চায়। এতে আপনার প্রাইভেসি যেমন ঝুঁকির মধ্যে থাকে তেমনই ব্যাটারির চার্জও কমে যায়। যার ফলে ফোন হয়ে যায় স্লো। কারণ সিস্টেম ডাটা এই পারমিশনগুলো সবসময় দেয় বলে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এন্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণে যখন অ্যাপ ব্যবহার করবেন, তখনই পারমিশন কার্যকর হবে, এমন সেটিং চালু আছে। তাই অ্যাপ ইনস্টল করে ভেবেচিন্তে পার্মিশন দিন।

সবসময় ইন্টারনেট চালু রাখবেন না: ফোনে সবসময় ডাটা বা ওয়াইফাই চালু রাখবেন না। যখন প্রয়োজন হবে তখনই ব্যবহার করুন। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা নিষ্ক্রিয় রাখুন। এতে ফোন স্লো হবে না।

Related Articles